কোষ বিভাজন কী?
Share
Join ProshnoUttor today! Ask, answer, and share knowledge—earn points, revenue, and rewards while learning with a global community. Sign up now and start your journey!
Welcome back to ProshnoUttor! Log in to explore, contribute, and earn rewards while learning with our global community. Let’s get started!
Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.
Please briefly explain why you feel this question should be reported.
Please briefly explain why you feel this answer should be reported.
Please briefly explain why you feel this user should be reported.
কোষ বিভাজন হলো জীববিজ্ঞানের একটি মৌলিক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একটি একক মাতৃকোষ (Parent Cell) বিভক্ত হয়ে দুই বা ততোধিক সন্তান কোষ (Daughter Cells) তৈরি করে। এটি জীবদেহে বৃদ্ধি, ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু পুনর্জনন, প্রজনন এবং জেনেটিক উপাদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। কোষ বিভাজনের মাধ্যমে জীবের জীবনচক্র সম্পন্ন হয় এবং এটি এককোষী জীব থেকে বহুকোষী জীব পর্যন্ত সবার ক্ষেত্রেই দেখা যায়। এই প্রক্রিয়া দুটি প্রধান ধরনের হয়ে থাকে: মাইটোসিস এবং মিয়োসিস। নিচে এই দুটি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো।
১. মাইটোসিস (Mitosis):
মাইটোসিস হলো এমন একটি কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া যেখানে একটি মাতৃকোষ থেকে দুটি সন্তান কোষ তৈরি হয়, এবং এই সন্তান কোষগুলো জেনেটিকভাবে মাতৃকোষের সাথে অভিন্ন হয়। এটি সাধারণত দেহকোষে (Somatic Cells) ঘটে এবং জীবের বৃদ্ধি, টিস্যু মেরামত এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পুনর্জননের জন্য দায়ী। মাইটোসিস একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া যা কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ধাপে বিভক্ত। এই ধাপগুলো হলো:
মাইটোসিসের ফলে প্রতিটি সন্তান কোষ মাতৃকোষের সমান সংখ্যক ক্রোমোজোম (2n) পায়, যা জীবের জেনেটিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
২. মিয়োসিস (Meiosis):
মিয়োসিস হলো একটি বিশেষ ধরনের কোষ বিভাজন, যা শুধুমাত্র জনন কোষ (Gametes) যেমন শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু তৈরির জন্য ঘটে। এটি যৌন প্রজননের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ক্রোমোজোমের সংখ্যা অর্ধেক (n) করে দেয়। মিয়োসিস দুটি পর্যায়ে বিভক্ত: মিয়োসিস I এবং মিয়োসিস II।
মিয়োসিসের ফলে জেনেটিক বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পায় এবং যৌন প্রজননের মাধ্যমে সন্তানদের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।
কোষ বিভাজনের গুরুত্ব:
উপসংহার:
কোষ বিভাজন জীববিজ্ঞানের একটি কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়া যা জীবনের সকল স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাইটোসিস এবং মিয়োসিস উভয়ই জীবের জীবনচক্রে ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে কাজ করে এবং জীবজগতের বৈচিত্র্য ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে।
কোষ বিভাজন হল একটি জৈব প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি মা কোষ বিভাজিত হয়ে দুটি বা ততোধিক নতুন কোষ তৈরি করে। এই প্রক্রিয়া জীবন্ত জীবের বংশবিস্তার, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ ও মেরামতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোষ বিভাজনের মাধ্যমে জীবের শরীরে নতুন কোষ সৃষ্টি হয় এবং পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত কোষ প্রতিস্থাপিত হয়।
কোষ বিভাজনের প্রকারভেদ:
কোষ বিভাজন প্রধানত তিন ধরনের হয়ে থাকে:
১. মাইটোসিস (Mitosis) – সমতা বিভাজন:
মাইটোসিস হল এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি মা কোষ সম সংখ্যক ক্রোমোজোমসহ দুটি সমান ও সদৃশ কন্যা কোষে বিভক্ত হয়। এটি মূলত দেহকোষ বা সোম্যাটিক কোষে ঘটে।
ধাপসমূহ:
ইন্টারফেজ (Interphase): এটি মাইটোসিস শুরুর পূর্ববর্তী প্রস্তুতির ধাপ। কোষের ডিএনএ দ্বিগুণ হয় এবং কোষ বিভাজনের জন্য প্রস্তুত হয়।
প্রোফেজ (Prophase): ক্রোমাটিন সংকুচিত হয়ে ক্রোমোজোম গঠন করে। নিউক্লিয়াস ভেঙে যায় এবং স্পিন্ডল তন্তু তৈরি হয়।
মেটাফেজ (Metaphase): ক্রোমোজোমগুলো কোষের কেন্দ্রস্থলে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেয়।
অ্যানাফেজ (Anaphase): প্রতিটি ক্রোমোজোমের দুইটি ক্রোমাটিড আলাদা হয়ে বিপরীত মেরুর দিকে চলে যায়।
টেলোফেজ (Telophase): প্রতিটি মেরুতে ক্রোমাটিড থেকে নিউক্লিয়াস পুনঃগঠিত হয়, এবং ক্রোমাটিন অবস্থায় ফিরে আসে।
সাইটোকাইনেসিস (Cytokinesis): সাইটোপ্লাজম বিভক্ত হয়ে দুটি পূর্ণাঙ্গ কন্যা কোষ গঠিত হয়।
➡️ মাইটোসিসের ফলাফল: দুটি জেনেটিকভাবে অভিন্ন কন্যা কোষ।
২. মেইওসিস (Meiosis) – অসমতা বিভাজন:
মেইওসিস হল এমন একটি বিভাজন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি মা কোষ থেকে চারটি কন্যা কোষ উৎপন্ন হয় এবং প্রতিটি কন্যা কোষে মা কোষের অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। এটি গ্যামেট বা জনন কোষ (যেমন: শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) গঠনের জন্য ঘটে।
মেইওসিসের দুইটি ধাপ:
মেইওসিস I (Meiosis I): হোমোলোগাস ক্রোমোজোম জোড়া বিভক্ত হয়ে দুইটি কন্যা কোষ তৈরি করে।
মেইওসিস II (Meiosis II): প্রতিটি কন্যা কোষের ক্রোমাটিড বিভক্ত হয়ে মোট চারটি কন্যা কোষ তৈরি করে।
➡️ মেইওসিসের ফলাফল: চারটি জেনেটিকভাবে ভিন্ন কন্যা কোষ, প্রতিটির ক্রোমোজোম সংখ্যা হাফ।
৩. অমিতোসিস (Amitosis) – সরল বিভাজন:
এটি একটি সাধারণ ও অপরিকল্পিত বিভাজন প্রক্রিয়া যেখানে নিউক্লিয়াস সরাসরি বিভক্ত হয়, এবং পরে সাইটোপ্লাজম বিভক্ত হয়ে দুটি কন্যা কোষ গঠিত হয়। এই প্রক্রিয়া সাধারণত নিম্নস্তরের জীব যেমন ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা ইত্যাদিতে দেখা যায়।
➡️ অমিতোসিসের বৈশিষ্ট্য: কোনো মাইটোটিক স্পিন্ডল তৈরি হয় না এবং ক্রোমোজোম সুস্পষ্ট হয় না।
কোষ বিভাজনের গুরুত্ব:
জীবের বৃদ্ধি: শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সময় শরীরের কোষ সংখ্যা বৃদ্ধি পায় কোষ বিভাজনের মাধ্যমে।
ক্ষত মেরামত: শরীরের ক্ষতস্থানে নতুন কোষ গঠনের মাধ্যমে মেরামত হয়।
বংশবিস্তার: মেইওসিসের মাধ্যমে গ্যামেট গঠন হয় যা যৌন প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ।
জিনগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা: মাইটোসিস কন্যা কোষে মা কোষের জিনগত উপাদান বজায় রাখে।
জৈব বিবর্তনে ভূমিকা: মেইওসিসে ক্রসিং ওভার এবং জেনেটিক ভিন্নতা সৃষ্টি হয়, যা বিবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার:
কোষ বিভাজন একটি অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া যা জীবজগতের জীবনের ধারাবাহিকতা, জিনগত তথ্য সংরক্ষণ, শরীরের বৃদ্ধি ও পুনর্গঠনে অপরিহার্য। জীববিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এটি, কারণ এর মাধ্যমে জীবের মৌলিক কাঠামোগত ও কার্যকরী একক কোষের পুনরুৎপাদন ঘটে।
কোষ বিভাজন হল একটি জৈব প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি মা কোষ বিভক্ত হয়ে দুটি বা ততোধিক নতুন কোষ তৈরি করে। এটি জীবের বৃদ্ধি, ক্ষত মেরামত ও বংশবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোষ বিভাজনের প্রধান তিনটি ধরণ হলো:
মাইটোসিস – সম সংখ্যক ক্রোমোজোমসহ দুটি সদৃশ কন্যা কোষ তৈরি হয়।
মেইওসিস – অর্ধেক ক্রোমোজোমসহ চারটি ভিন্ন কন্যা কোষ তৈরি হয়, গ্যামেট উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
অমিতোসিস – সরল ও অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন, সাধারণত এককোষী জীবে দেখা যায়।