সাইটোকাইনেসিস বলতে কী বোঝায়?
Share
Join ProshnoUttor today! Ask, answer, and share knowledge—earn points, revenue, and rewards while learning with a global community. Sign up now and start your journey!
Welcome back to ProshnoUttor! Log in to explore, contribute, and earn rewards while learning with our global community. Let’s get started!
Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.
Please briefly explain why you feel this question should be reported.
Please briefly explain why you feel this answer should be reported.
Please briefly explain why you feel this user should be reported.
সাইটোকাইনেসিস হল কোষ বিভাজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা কোষের সাইটোপ্লাজম ও অন্যান্য কোষের উপাদানগুলোর বিভাজনকে নির্দেশ করে। এটি কোষ বিভাজনের শেষ পর্যায়, যেখানে একটি মায়া কোষের সাইটোপ্লাজম দুটি নতুন কন্যা কোষে সমানভাবে বিতরণ হয়। সাইটোকাইনেসিসের মাধ্যমে কোষের শারীরিক বিভাজন সম্পন্ন হয় এবং দুটি পূর্ণাঙ্গ কন্যা কোষ তৈরি হয়, যা আলাদা আলাদাভাবে কাজ করতে সক্ষম হয়।
সাইটোকাইনেসিসের সময়ের ধরন:
সাইটোকাইনেসিস সাধারণত কোষ বিভাজনের পরে ঘটে, এবং এটি দুটি প্রধান ধাপে বিভক্ত হতে পারে—পশু কোষে এবং উদ্ভিদ কোষে। যদিও সাইটোকাইনেসিস প্রক্রিয়া দুটি কোষে একইভাবে ঘটে, তবে এই দুই ধরণের কোষের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
সাইটোকাইনেসিসের ধাপ:
সাইটোকাইনেসিস মাইটোসিস বা মেইওসিসের পর ঘটে, এবং এটি প্রধানত দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়:
পশু কোষে সাইটোকাইনেসিস:
পশু কোষের সাইটোকাইনেসিসের মধ্যে কনস্ট্রিকশন রিং বা ফুরোউশন রিং নামে একটি গঠন থাকে। এই রিংটি প্রোটিন ফাইবার যেমন অ্যাকটিন এবং মায়োসিন দিয়ে তৈরি, যা কোষের প্লাজমা মেমব্রেনের কাছে সংকুচিত হতে থাকে। এটি প্লাজমা মেমব্রেনকে অর্ধেক দিয়া দুটি আলাদা কন্যা কোষে বিভক্ত করে, এই প্রক্রিয়াকে ক্লিভেজ ফুরোউশন বলা হয়।
ধাপ:
উদ্ভিদ কোষে সাইটোকাইনেসিস:
উদ্ভিদ কোষে সাইটোকাইনেসিসের ক্ষেত্রে কোষের দেয়াল বা সেল ওয়াল রয়েছে, যা পৃথক হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই উদ্ভিদ কোষের সাইটোকাইনেসিস প্রক্রিয়া কিছুটা আলাদা।
ধাপ:
সাইটোকাইনেসিসের গুরুত্ব:
সাইটোকাইনেসিস হলো কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চূড়ান্ত ধাপ, যেখানে একটি মাতৃকোষের সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm) বিভক্ত হয়ে দুটি বা ততোধিক স্বাধীন সন্তান কোষ তৈরি করে। এটি কোষের নিউক্লিয়াস বিভাজন বা ক্যারিওকাইনেসিস (Karyokinesis)-এর পরে ঘটে এবং মাইটোসিস (Mitosis) ও মিয়োসিস (Meiosis) উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়। সাইটোকাইনেসিসের মূল উদ্দেশ্য হলো মাতৃকোষের সাইটোপ্লাজম, অর্গানেল (যেমন মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি) এবং অন্যান্য কোষীয় উপাদানগুলোকে সন্তান কোষগুলোর মধ্যে সঠিকভাবে বণ্টন করা, যাতে প্রতিটি নতুন কোষ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। এই প্রক্রিয়া জীবের বৃদ্ধি, টিস্যু মেরামত, এবং প্রজননের জন্য অপরিহার্য। নিচে সাইটোকাইনেসিসের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো।
সাইটোকাইনেসিস কখন এবং কীভাবে ঘটে?
সাইটোকাইনেসিস সাধারণত মাইটোসিস বা মিয়োসিসের টেলোফেজ (Telophase) ধাপের সময় শুরু হয়, যখন ক্রোমোজোমগুলো কোষের দুই মেরুতে পৌঁছে নতুন নিউক্লিয়াস গঠন শুরু করে। তবে, এর প্রক্রিয়া কোষের ধরন এবং জীবের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হয়। প্রাণী কোষ এবং উদ্ভিদ কোষে সাইটোকাইনেসিস ভিন্ন পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়, যা নিচে বর্ণিত হয়েছে।
১. প্রাণী কোষে সাইটোকাইনেসিস:
প্রাণী কোষে সাইটোকাইনেসিস একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে যাকে ক্লিভেজ ফারো (Cleavage Furrow) বলা হয়। এটি নিম্নলিখিত ধাপে সম্পন্ন হয়:
এই প্রক্রিয়ায় কোষ প্রাচীর না থাকার কারণে প্রাণী কোষে সাইটোকাইনেসিস তুলনামূলকভাবে দ্রুত এবং নমনীয় হয়।
২. উদ্ভিদ কোষে সাইটোকাইনেসিস:
উদ্ভিদ কোষে সাইটোকাইনেসিস ভিন্ন পদ্ধতিতে ঘটে কারণ এদের শক্ত কোষ প্রাচীর (Cell Wall) থাকে। এখানে সেল প্লেট (Cell Plate) গঠনের মাধ্যমে বিভাজন সম্পন্ন হয়। ধাপগুলো হলো:
উদ্ভিদ কোষে কোষ প্রাচীরের উপস্থিতির কারণে ক্লিভেজ ফারো গঠন সম্ভব নয়, তাই সেল প্লেট পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
সাইটোকাইনেসিসের সময় ও নিয়ন্ত্রণ:
সাইটোকাইনেসিস একটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া। এটি কোষ চক্রের (Cell Cycle) বিভিন্ন চেকপয়েন্টের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, যাতে নিউক্লিয়াস বিভাজন সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই সাইটোপ্লাজম বিভক্ত হয়। প্রোটিন কাইনেস এবং অন্যান্য সংকেত প্রোটিন (যেমন Cyclins) এই প্রক্রিয়ার সময় এবং সঠিকতা নিশ্চিত করে। যদি সাইটোকাইনেসিসে ত্রুটি ঘটে, তবে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা ক্যান্সারের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মাইটোসিস ও মিয়োসিসে সাইটোকাইনেসিসের পার্থক্য:
সাইটোকাইনেসিসের গুরুত্ব:
উপসংহার:
সাইটোকাইনেসিস কোষ বিভাজনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা ক্যারিওকাইনেসিসের পর কোষকে সম্পূর্ণভাবে বিভক্ত করে। প্রাণী ও উদ্ভিদ কোষে এর পদ্ধতি ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য একই—দুটি কার্যকরী সন্তান কোষ তৈরি করা। এই প্রক্রিয়া জীবজগতের বৃদ্ধি, বিকাশ এবং ধারাবাহিকতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাইটোকাইনেসিস হল কোষ বিভাজনের একটি শেষ ধাপ, যেখানে কোষের সাইটোপ্লাজম বিভক্ত হয়ে দুটি নতুন কন্যা কোষ তৈরি হয়। মাইটোসিস বা মেইওসিসের পর এই প্রক্রিয়া ঘটে, এবং এর মাধ্যমে কোষের শারীরিক বিভাজন সম্পূর্ণ হয়। সাইটোকাইনেসিসে সাইটোপ্লাজম, অরগানেলস (যেমন মাইটোকন্ড্রিয়া, রিবোসোম) এবং অন্যান্য কোষের উপাদান দুটি কন্যা কোষে সমানভাবে বিতরণ হয়, যাতে প্রতিটি কন্যা কোষ পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করতে সক্ষম হয়।
প্রাণী কোষে সাইটোকাইনেসিস ক্লিভেজ ফারো (Cleavage Furrow) নামক একটি সংকোচনের মাধ্যমে ঘটে, যেখানে কোষের মাঝখানে একটি খাঁজ তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে কোষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়। অন্যদিকে, উদ্ভিদ কোষে এটি সেল প্লেট (Cell Plate) গঠনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যেখানে গলগি বডি থেকে নির্গত ভেসিকলগুলো কোষের মাঝখানে জমা হয়ে নতুন কোষ প্রাচীর তৈরি করে। এই প্রক্রিয়া জীবের বৃদ্ধি, টিস্যু পুনর্জনন এবং প্রজননের জন্য অপরিহার্য।